Precognition

imagesভবিষ্যতে ঘটে যাওয়া ঘটনার পূর্বাভাস পাওয়াকে বলে Precognition বা Premonition। পৃথিবীর অনেক মানুষ, অনেক খ্যাতিমান মানুষেরও প্রিমনিশন হয়েছিল। American Psychological Association এমন অনেক ঘটনার রেকর্ড রেখেছে।

একবার আব্রাহাম লিংকন স্বপ্ন দেখেন যে তিনি হোয়াইট হাউজে প্রবেশ করেছেন। সেখানে সবাই খুব বিষণ্ণ মুখ করে বসে আছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন- কি হয়েছে এখানে? একজন উত্তর দিল- আমাদের প্রেসিডেন্ট মারা গিয়েছেন। এই স্বপ্ন দেখার ঠিক দশদিন পর, ১৮৬৫ সালের ১৫-ই এপ্রিল তিনি মারা যান।

ইংরেজ কবি টেনিসন একবার স্বপ্ন দেখলেন যে রাণী ভিক্টোরিয়ার স্বামী এলবার্ট তার হাতে চুমু খাচ্ছে! পরদিন তিনি বৃটিশ রাজপরিবার থেকে চিঠি পেলেন, তাকে দেশের সেরা কবি হিসেবে রিকগনিশন দেওয়ার জন্য একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে রাজপরিবার, সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাকে।

আরেক কবি শেলি মারা গিয়েছিলেন খুব অল্পবয়সে, ভূমধ্যসাগরে ডুবে। মৃত্যুর আগে তিনি স্বপ্ন দেখেন যে তার কয়েক বন্ধু রক্তাক্ত অবস্থায় এসে তাকে বলছে, “বাড়িটা তো পানির নিচে ডুবে গেল!”

প্রিমনিশনের বিজ্ঞানীরা একেকজন একেকভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন । সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মত যেটা আছে,সেটা হল অনেকটা এরকম- আমাদের প্রত্যেকের মস্তিস্কের স্বতন্ত্র কাজ করার ধরণকে বলে কগনিটিভ বায়াস, কোন ঘটনা বা সম্ভাবনা বাছাই করাটা হল সিলেকশন বায়াস। আমাদের আশেপাশের ঘটনাগুলোর একটা প্যাটার্ন খুঁজে বের করে মস্তিস্ক। তারপর সেই প্যাটার্ন অনুসারে বিভিন্ন সম্ভাবনাকে বাছাই করে।

যেমন- কারো মনে হল আজ তার মা তাকে ফোন করবেন, দেখা গেল সত্যই করেছেন। কিন্তু ইনভেস্টিগেইট করে দেখতে পেলেন যে,মাসের প্রথম রবিবারগুলোতে আপনাকে আপনার মা ফোন করে। আপনার অজান্তেই মস্তিস্কে প্যাটার্ন তৈরি হয়ে আছে!
এভাবেই বিভিন্ন ঘটনার Prediction করতে করতে মস্তিস্কের দক্ষতা বেড়ে যায়,ছোটখাট সিম্পটম দেখেই মস্তিস্ক ধরতে পারে কি হতে চলেছে এবং এ বিষয়টাই প্রিকগনিশন হয়ে ধরা দেয়। পুরো ব্যাপারটা হল যুক্তি এবং গাণিতিক হিসেবের জটিল খেলা। আধ্যাত্মিক কিছু নেই এখানে।
এই ব্যাখ্যাটা পাওয়ার পর আমি নিজেই আমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা দাড় করিয়ে ফেলি। এই যেমন প্রথম ঘটনাটায় আমি চাচীর সন্তানের জেন্ডার ধরে ফেললাম। ব্যাখ্যাটা হল- Theory of Probability, সম্ভাব্যতার সূত্র। পর পর দু’টো ছেলে এসেছে আমাদের বংশে, চাচীরটা তিন নম্বর। সুতরাং সম্ভাব্যতার সূত্রানুসারে তিন নম্বর সন্তানটা মেয়ে-ই হওয়ার কথা।

ট্রেনে যে ছেলেটার নাম R দিয়ে শুরু, সে ছেলেটা বেশ হৈ-হুল্লোর করতে করতে আসছিল। তার বন্ধুরা হয়তো তার নাম ধরে ডেকেছিল দুয়েকবার, অবচেতন মন নামটা শুনেছে, তারপর চেতন মনে পুরো নামটা না পাঠিয়ে নামের প্রথম অক্ষরটা পাঠিয়েছে শুধু।

আর চিটাগাং ইউনিভার্সিটির ইংরেজি ডিপার্টমেন্টে আমি বেশ কয়েকবার গিয়েছি। তখন হয়তো ঐ সিনিয়র ভাইয়ের ছবি সাবকনশাস মাইন্ড টুকে রেখেছিল, তাই সহজেই চিনতে পেরেছিলাম ওনাকে।

যাই হোক, আমি বিশ্বাস করি,পৃথিবীতে যুক্তি ছাড়া কিছু ঘটে না। তারপরও যখন এই ধরণের ঘটনাগুলো ঘটে, তখন একটু ভয়-ই লাগে। বিশ্বাস ভেঙে যাওয়ার ভয়, বড্ড বড় ভয়!

শেষ কথা হল, আমি অতি আগ্রহের সাথে পরবর্তী প্রিমনিশনের অপেক্ষায় আছি। প্রিমনিশন হবে আর আমি একটা ব্যাখ্যা দাড় করিয়ে ফেলব। Logic and nothing more….

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s